তেল, পেঁয়াজ, রসুনসহ ১৭ পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ

onion-oil

ঢাকা : অগ্রাধিকার ও বিশেষ উন্নয়ন খাত চিহ্নিত করে তেল, গম, রসুন, পেঁয়াজসহ ১৭ পণ্য নিষিদ্ধ করে নতুন রপ্তানি নীতি অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এছাড়া আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানো, আগামী ২০২১ সাল নাগাদ ৬ হাজার কোটি টাকা রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘রপ্তানি নীতি ২০১৫-২০১৮’ শীর্ষ নীতিটির মেয়াদ তিন বছর।

বুধবার সচিবালয়ে ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এটি অনুমোদন দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘নতুন নীতিমালা চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকেই কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।’

উল্লেখ্য, বিদ্যমান ‘রপ্তানি নীতি ২০১২-২০১৫’-এর মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। কিন্তু বিধান অনুযায়ী নতুন রপ্তানি নীতি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত পুরনো রপ্তানি নীতিই বহাল থাকে।

নতুন রপ্তানি নীতিতে রপ্তানি বাড়াতে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোর ভূমিকা জোরদার করা, বাংলাদেশি পণ্যের ব্রান্ডিং করা, আমদানি বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি নির্ভর বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হয়েছে ৷

নীতিমালায় ১২টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত ও ১৪টি বিশেষ উন্নয়মূলক খাত অন্তর্ভূক্তির পাশাপাশি রপ্তানির বিপরীতে প্রদেয় সাধারণ সুযোগ-সুবিধা, রপ্তানি পণ্যভিত্তিক সুবিধা, রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্য ও শর্তসাপেক্ষে রপ্তানির পণ্য তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত : নতুন রপ্তানি নীতিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ১২টি খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে অধিক মূল্য সংযোজিত তৈরি পোশাক ও গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, সফটওয়্যার ও আইটি এনাবল সার্ভিসেস ও আইসিটি পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, জাহাজ নির্মাণ, জুতা ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্ল্যাস্টিক পণ্য, এগ্রো প্রোডাক্ট ও এগ্রো প্রসেসড পণ্য, ফার্নিচার, হোম- টেক্সটাইল ও টেরিটাওয়েল, হোম ফার্নিশিং ও লাগেজ।

বিশেষ উন্নয়মূলক খাত : নতুন রপ্তানি নীতিতে বিশেষ উন্নয়মূলক খাত হিসেবে ১৪টি খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে: বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনক্স পণ্য, সিরামিক পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য (অটো পার্টস ও বাই-সাইকেলসহ), মূল্য সংযোজিত হিমায়িত মৎস্য, পাঁপড়, প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, অমসৃণ হীরা ও জুয়েলারি, পেপার ও পেপার প্রোডাক্টস, রাবার, রেশম সামগ্রী, হস্ত ও কারুপণ্য, লুঙ্গিসহ তাঁত শিল্পজাত পণ্য ও নারিকেল ছোবড়া।

রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্য : নতুন রপ্তানি নীতিতে ভোজ্য তেল, গম, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, প্রক্রিয়াজাত ব্যতীত সকল প্রকার ডাল এবং সরকারি পর্যায় ও সুগন্ধি চাল ছাড়া সাধারণ চালসহ ১৭টি ক্যাটাগরির পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেÑ পাটবীজ ও শনবীজ, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ, তেজস্ক্রীয় পদার্থ, পুরাতাত্ত্বিক দুর্লভ বস্তু, মনুষ্য কঙ্কাল ও রক্তের প্ল্যাজমা কিংবা এগুলোর দ্বারা তৈরি সামগ্রী, চিল্ড, হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাত ব্যাতীত অন্যান্য চিংড়ি, ছোট আকারের সামুদ্রিক চিংড়ি, বেত, কাঠ ও কাঠের গুড়ি, জীবিত বা মৃত সকল প্রজাতির ব্যাঙ ও ব্যাঙের পা, কাঁচা ও ওয়েট ব্লু চামড়া ইত্যাদি।

এছাড়া বহিগর্মন শুল্ক বন্দর ব্যাতীত অন্য কোন পথে, সাইটিস সার্টিফিকেট ও লাইন্সেস ব্যতীত কোন বন্য প্রাণী বা তার অংশ, ট্রফি; প্রাকৃতিক গ্যাস উদ্ভুত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য (যেমন- ন্যাপথা, ফরনেস অয়েল, লুব্রিক্যান্ট অয়েল, বিটুমিন, কনডেনসেট, এমটিটি, এমএস) ছাড়া সকল পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করা যাবে না। তবে পিএসসি’র আওতায় বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান চুক্তি মোতাবেক তাদের অংশের পেট্রোলিয়াম ও এলএনজি রপ্তানি করতে পারবে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের কেউ বিদেশে গমনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মালামালের বাইরে রপ্তানি নিষিদ্ধ ও শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানিযোগ্য পণ্য ছাড়া বাংলাদেশের তৈরি ২শ’ ডলারের সমমূল্যের পণ্য সঙ্গে নিতে পারবেন। তবে এজন্য রপ্তানি সংক্রান্ত কোন সুযোগ-সুবিধা তিনি প্রাপ্য হবেন না।

শর্তসাপেক্ষে রপ্তানিযোগ্য পণ্য : কাফকো ছাড়া অন্য কারখানায় প্রস্তুতকৃত ইউরিয়া সার; বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, সিনেমা, অডিও-ভিডিও, প্রাকৃতিক গ্যাস উদ্ভুত পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, রাসায়নিক অস্ত্র, চিনি, ইলিশ মাছ, সুগন্ধি চাল, কুমিরের চামড়া ও মাংস ইত্যাদি পণ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে রপ্তানি করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *