ReactionBD

ইউকে প্রবাসী ঝিনাইদহবাসীদের নিয়ে পারিবারিক মিলন মেলা “প্রাণের ঝিনাইদা‘র প্রথম আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন


লন্ডন প্রতিনিধিঃ জাকযমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রাণের ঝিনাইদা‘র প্রথম মিলন মেলা। গত শনিবার পূর্বলন্ডনের ওয়েস্টফেরী ডিএলআর স্টেশনের পাশে লাইম হাউজ ইউথ সেন্টারে আয়োজন করা হয় বিশাল এ আয়োজনের। বৃটেনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শতাধীক প্রবাসী ঝিনাইদহবাসীর আগমনে মুখোর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান ভ্যেনু। নাজমুল হাসান সোহাগ ও সাংবাদিক তৌহিদুল করিম মুজাহিদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় এবং লেঃ কঃ শামস রহমান (অবঃ) ও ব্যারিস্টার এ এইচ আল মামুনের পরিচালনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে বৃটেনে বসবাসকারী প্রবাসী ঝিনাইদহবাসীদের নিয়ে প্রথম এ আয়োজন।
বিখ্যাত সাধক লালন শাহ ও কবি গোলাম মস্তোফার জন্মশহর ঝিনাইদহ জেলার শত শত পরিবার বৃটেনের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করছে সেই দীর্ঘ বছর ধরে। সময়ের ব্যবধানে বৃটিশ সোসাইটির সাথে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নেয়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিজেদেরকে অবস্থানকে তুলে ধরতে সার্থক হয়েছেন। অংশ নিয়েছেন নানা রকম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে। তথাপি নিজেদের ফেলেআসা অতিতকে বা নিজের জেলাকে ভূলে থাকতে পারেনি কোনভাবেই। ব্যাক্তিগত পর্যায়ে চেষ্টা করে গেছেন ছোট ছোট পরিবারগুলোকে নিয়ে একতাবদ্ধ থাকার। সময় ও বাস্তবতার কারনে অন্যান্য প্রান্তে বসবাসকারী ঝিনেদাবাসীর সাথে একত্রিত হতে না পারলেও সকলকে নিয়ে একত্রিত হবার চেষ্ঠা অব্যাহত ছিল সবার মাঝে। আর তাইতো সল্প সময়ের আহ্বানে সারা দিয়ে শতাধিক মানুষ একত্রিত হতে পেরেছিলেন নাড়ীর টানে। গত শনিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৫টি ঘন্টা যেন পার হয়েছে নিমেষের মধ্যে। তবে সকলেই ফিরে গেছেন আবার মিলিত হবার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে।
দীর্ঘ বছর পর এমন মিলন মেলার আয়োজনে সবাই ছিল আবেগ আপ্লূত। আর তাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে শত ব্যস্ততা ফেলে বৃটেনের বিভিন্ন শহর থেকে পরিবার সহ ছুটে এসেছিল শতাধিক প্রবাসী ঝিনেদাবাসী। নিজ সমাজ, সংসার, পিতা-মাতা ও ছোট্টবেলার বন্ধুবান্ধবহীন মানুষগুলো আবেগঘন এ আয়োজনে অংশ নিতে ছিল উগ্রীব। অচেনা অজানা ভিন্ন এক দেশে উপস্থিত সকলেই যেন খুজে পেল তার আপন সত্বাকে। তাদের উচ্ছাস দেখে বোঝার কোন উপায় ছিল না যে কিছুদিন আগেও এরা ছিল একে অপরের অচেনা। প্রাণের উচ্ছাসে মেতে উঠেছিল সবাই।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রকার ধাধা ও কৌতুক দিয়ে উপস্থিত সবাইকে মাতিয়ে রাখেছিলেন ব্যারিস্টার এ এইচ আল মামুন। তার অনবদ্য ফ্যান ও ধাধা মূগ্ধ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে। ডাঃ সালেক মুর্শেদ ঝিনেদা‘র উপর রচিত তার নিজের লেখা কবিতা আর মনোমুদ্ধকর বাউল গান সবাইকে সম্মহিত করে তোলে। সেই সাথে ব্যারিস্টার নাফিস মজমাদারে আর মালিহা তাবাসছুম উপমার সুললিত কন্ঠের গান মোহিত করে সকলকে।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আনন্দঘন আয়োজন ছিল তুহিন ফেরদৌসের কিডস টাইম। শিশুদেরকে মাতিয়ে রাখতে ছিল তার নানান আয়োজন। কাজের ব্যস্ততাকে পাশকাটিয়ে দু‘দিন ছুটি নিয়ে তৈরী করেছিল নানান খেলা ও বিনোদন সামগ্রী। তার অনবদ্য প্রচেষ্ঠা ছোট ছোট শিশু-কিশোরদেরকে আনন্দে মাতিয়ে রাখে সমসস্ত সময়জুড়ে। শিশুদের বিনোদনের এ কঠিন কাজকে সহজ করতে এগিয়ে আসেন আছরাফুন রনি, নাসিমা খান, মালিহা তাবাসছুম উপমা, মামনি ফিজা ও ঈসিকা সহ অনেকেই। আমাদের ছোট্ট মামনি ফিজা তার অসাধারণ প্রতিভার সাক্ষর রাখে ছোট ছোট শিশুদের ফেস পেইন্ট করে। মামনি ফিজা সকল শিশুদের কাছে অল্পসময়ের মধ্যে ভালবাসার বড় আপায় পরিণত হয় নিমেষেই। শুরু হয় আপাকে ঘিরে তাদের নানান বায়না। বাচ্চাদের টেনশন মুক্ত একটি মনমুগ্ধকর বিকাল কাটাতে পেরে মা‘য়েরা ছিলেন আনন্দে উদ্বেলিত। মেতে উঠেছিলেন নানান গল্প আর নতুন নতুন মানুষদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরীতে। সেই সাথে উপোভোগ করছিলেন তুহিন ফেরদৌসের মজার উপস্থাপনা আর ফান বক্স খুলতে।
অনুষ্ঠানের মূল অংশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল নিরবিচ্ছিন্ন ও আন্তরিকতার সাথে খাবার পরিবেশনা। আর এ কাজে দ্বায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্রিয় ছিল সোহেল পারভেজ, এম এ খুরশীদ শাহীন, মাফু খান, সোয়দ, ইকবাল, আল কামাল মাহমুদ, তানসেন, শাহিন ফেরদৌস, চমন, লিমন, সগ্রাম, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান, যোসি সহ আরো অনেকে। সব মিলে এ আয়োজন ছিল এক ও অনবদ্য।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে সোহেল পারভেজের উদ্যোগে বৃহৎ এক কেক কাটার আযোজন করা হয়। সেই সাথে সুদুর ঝিনিইদহ থেকে আগত স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টু‘র সহধর্মীনি মুর্শিদা জামানকে ফুলের তোরা দিয়ে শুভেচ্ছাসহ বরণ করে নেয়া হয়। এ সময় মুর্শিদা জামান বলেন, এমন এক আয়োজন দেখে তিনি মুগ্ধ। প্রবাসে নিজ এলাকার মানুষদেরকে নিয়ে এভাবে একই পরিবারভুক্ত হয়ে এমন আন্তরিকভাবে থাকা যায় এটা আমাদের সকলের জন্য একটি শিক্ষা। এককথায় এটি একটি অসাধারন ব্যাপার।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এমন আরো অয়োজনের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উপস্থিত সকলেই অত্যন্ত উৎসাহ ও আনন্দের সাথে সহমত পোষন করেন। তারা বলেন, শেকড়ের টানে আজ আমরা একত্রিত হতে পেরেছি। এ ধারা যেন অবিচল আর অব্যাহত থাকে আজীবন। আমাদের সন্তানেরা যেন নিজ ভূমিকে ভূলে না যায়। আমাদের এ প্রচেষ্ঠা তাদের জন্য নিশ্চয় নতুন দিগন্তের সৃষ্টি করবে। আগামীর পথ চলা ও বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ ও নিজ জেলা ঝিনাইদহকে তুলে ধরতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভূমিকার রাখবে এটায় আমাদের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের মন্তব্য ছিল, এ আয়োজন আমাদেরকে শুধু আনন্দই দেয়নি দিয়েছে নতুন দিনের প্রত্যাশিত আলোর আভাস। সেইসাথে আমরা খুজে পেয়েছি প্রবাসে ঝিনাইদহের স্বাদ। এ যেন প্রবাসে একটি ঝিনেদা, একটি একান্নবর্তী পরিবার এবং আমরা সবাই এ পরিবারের এক একজন সদস্য। স্বল্প সময়ের প্রচেষ্ঠায় প্রথম এ আয়োজনে অনেকেই উপস্থিত হতে পারেন নাই। যারা আসতে পারেন নাই তারাও সেলফোনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করেছেন। সেইসাথে প্রচন্ড ইচ্ছা থাকার পরও উপস্থিত না হতে পেরে দুঃখ ও অপারগতা প্রকাশ করে অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করেছে এবং আগামীতে যে কোন উদ্যোগে বা কর্মসূচীতে তাদের উপস্থিতির নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন।